Thursday, March 20, 2025

ইদের সালাত: হারিয়ে যাওয়া সুন্নাত পুনর্জীবিত করুন

 


ইদের সালাত: হারিয়ে যাওয়া সুন্নাত পুনর্জীবিত করুন

ইসলাম আমাদের একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা দিয়েছে, যেখানে প্রতিটি ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম ও সুন্নাত রয়েছে। ঈদের নামাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাধারণত খোলা মাঠে আদায় করতেন। যুগে যুগে সাহাবাগণ, তাবিঈগণ এবং ইসলামের মনীষীগণও এই সুন্নাত অনুসরণ করেছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, অনেক জায়গায় এখন মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ের প্রবণতা বেড়ে গেছে, যা নববী সুন্নাতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আসুন, আমরা এই হারিয়ে যাওয়া সুন্নাত পুনর্জীবিত করি।

খোলা মাঠে ঈদের সালাত আদায়ের গুরুত্ব

১. রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাত:

  • হজরত আবু সাইদ খুদরি (রাঃ) বলেন, "রাসূলুল্লাহ ﷺ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনে ঈদগাহের দিকে যেতেন এবং সেখানে নামাজ আদায় করতেন।"
    (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৫৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৮৯)

২. ঈদের আনন্দ ও উম্মতের ঐক্যের প্রতীক:

  • ঈদ শুধু একটি ইবাদত নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর একতার প্রকাশ। খোলা মাঠে নামাজ আদায় করলে সামাজিক ও ধর্মীয় বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।

৩. সবার জন্য অংশগ্রহণের সুযোগ:

  • মসজিদে জায়গা সংকটের কারণে অনেক মানুষ অংশগ্রহণ করতে পারেন না। খোলা মাঠে সেই সমস্যা থাকে না।

বৃষ্টি হলে কী করা উচিত?

অনেকেই ভাবেন, যদি বৃষ্টি হয় তাহলে খোলা মাঠে ঈদের নামাজ পড়া সম্ভব নয়। তবে এটি পুরোপুরি সত্য নয়। বরং প্রয়োজন হলে মাঠে প্যান্ডেল বা ছাউনি ব্যবহার করা যেতে পারে।

হাদিসের দলিল:

  • উমাইর ইবনু আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি তার চাচাদের থেকে শুনেছেন, "রাসূলুল্লাহ ﷺ একবার ইদের দিন বৃষ্টির কারণে নামাজ মসজিদে আদায় করেছিলেন।"
    (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১১৬৩)

  • তবে যদি সামান্য বৃষ্টি হয় এবং মাঠে ছাউনি দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে সেটিই উত্তম। কারণ এতে সুন্নাতও বজায় থাকে এবং নামাজও কষ্ট ছাড়া আদায় করা যায়।

রোদের তাপ থেকে বাঁচার জন্য সময় নির্ধারণ করুন

গরমের দিনে অনেক মুসল্লি রোদের তাপে অসুবিধায় পড়েন। এক্ষেত্রে যদি সম্ভব হয়, তবে ঈদের সালাত সকাল সকাল আদায় করা উত্তম।

ইমাম নববি (রহ.) বলেন:

"যদি আবহাওয়া প্রচণ্ড গরম হয়, তবে তাড়াতাড়ি ঈদের নামাজ আদায় করা মুস্তাহাব।"
(আল-মজমু, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৫)

আমাদের করণীয়:

✅ সুন্নাতের অনুসরণে ঈদের সালাত খোলা মাঠে আদায় করুন।
✅ বৃষ্টি হলে প্যান্ডেল বা ছাউনি দিয়ে নামাজ আদায় করুন।
✅ রোদের তাপ থেকে বাঁচতে সালাতের সময় নির্ধারণ করুন।
✅ হারিয়ে যাওয়া নববী সুন্নাত পুনর্জীবিত করুন।

আসুন, আমরা সবাই রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরে ঈদের নামাজ আদায় করি এবং ইসলামের সঠিক শিক্ষা সমাজে প্রতিষ্ঠিত করি। আল্লাহ আমাদের এই সুন্নাত পুনর্জীবিত করার তাওফিক দিন, আমিন।

রমজানের শেষ ১০ দিনের গুরুত্ব: ফজিলত ও করণীয়

রমজান মাসের শেষ ১০ দিন ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় সময়। এই সময়কে ইবাদত, তওবা ও নৈকট্য অর্জনের বিশেষ সুযোগ হিসেবে গণ্য করা হয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ এই ১০ দিনে ইবাদতে অধিক মনোযোগী হতেন এবং সাহাবাগণকেও তা করতে উৎসাহিত করতেন। আসুন, কুরআন ও হাদিসের আলোকে এর গুরুত্ব ও করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানি।

রমজানের শেষ ১০ দিনের গুরুত্ব

১. লাইলাতুল কদর পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ

  • আল্লাহ তাআলা বলেন:
    "নিশ্চয়ই আমি একে (কুরআন) কদর রাতে অবতীর্ণ করেছি। তুমি কি জানো কদর রাত কী? কদর রাত এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।"
    (সুরা আল-কদর: ১-৩)
  • কদর রাত রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে। এই রাতে ইবাদত করা ৮৩ বছরের বেশি সময় ইবাদতের সমান সওয়াব দেয়।

২. ইতিকাফ করার বিশেষ ফজিলত

  • রাসূলুল্লাহ ﷺ শেষ ১০ দিনে মসজিদে ইতিকাফ করতেন এবং সাহাবাদেরও উদ্বুদ্ধ করতেন।
  • আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
    "যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইতিকাফ করে, সে যেন এত দিন পর্যন্ত সমস্ত গুনাহ থেকে মুক্ত থাকে, যত দিন সে ইতিকাফে থাকে।"
    (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০২৫)

৩. তওবা ও গুনাহ থেকে মুক্তির সুবর্ণ সুযোগ

  • রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
    "যে ব্যক্তি রমজানের শেষ দশকে ইবাদত করবে, আল্লাহ তাকে আগের সব গুনাহ মাফ করে দেবেন।"
    (তিরমিজি, হাদিস: ৮১১)
  • এই সময় বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। রাসূল ﷺ শিক্ষা দিয়েছেন:
    "আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।"
    (হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা করতে ভালোবাসো, আমাকে ক্ষমা করে দাও।)

রমজানের শেষ ১০ দিনে করণীয়

লাইলাতুল কদর তালাশ করা: বিজোড় রাতগুলোতে বেশি বেশি ইবাদত করুন।
ইতিকাফ করা: সময় ও সুযোগ থাকলে মসজিদে ইতিকাফ করুন।
কুরআন তিলাওয়াত: এই সময়ে কুরআন পড়া ও বোঝার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিন।
নফল নামাজ ও দোয়া: তাহাজ্জুদ, সালাতুত তওবা ও সালাতুত হাজত আদায় করুন।
সদকা ও দান: গরীব ও অসহায়দের সাহায্য করুন, কারণ এটি কদর রাতের আমলের মধ্যে অন্যতম।
আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা: গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহর কাছে কাঁদুন ও দোয়া করুন।

উপসংহার

রমজানের শেষ ১০ দিন আমাদের জন্য বিশেষ রহমতের সময়। এই সময়ের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে আমাদের ইবাদতের মান বাড়াতে হবে, গুনাহ থেকে মুক্তি পেতে হবে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই সময়ের ফজিলত লাভের তাওফিক দিন। আমিন।

Monday, February 13, 2023

5 Simple Tips for Effectively Managing Expenses Within Your Monthly Income

Managing expenses can be a daunting task, especially when you are trying to live within your means. It's important to understand that with a little bit of planning and effort, you can effectively manage your expenses and live within your monthly income. Here are some tips that can help:

  1. Create a Budget: A budget is a tool that can help you manage your expenses and keep your spending in check. It's important to determine your monthly income and then allocate the necessary funds to your necessary expenses such as housing, food, transportation, and others.

  2. Track Your Spending: Keeping track of your spending is essential in managing your expenses. You can use a spreadsheet or an app to keep track of your daily expenses. This will give you a clearer picture of where your money is going and help you make adjustments accordingly.

  3. Avoid Impulse Purchases: Impulse purchases can be a big drain on your budget. To avoid these, try to wait 24 hours before making a purchase and consider if you really need the item. This can help you save money and prevent impulse purchases from becoming a habit.

  4. Prioritize Expenses: Decide which expenses are a priority and which ones can be cut back on. For example, eating out may be a luxury expense that can be reduced. On the other hand, paying rent and utilities should be a priority.

  5. Look for Deals and Coupons: By taking advantage of deals and coupons, you can save money on your monthly expenses. Look for discounts and sales at the grocery store and try to use coupons whenever possible.
By following these tips, you can effectively manage your expenses and live within your monthly income. Remember, the key to success is to be consistent and disciplined with your budgeting. Start today and see the difference it can make in your financial future!

Need help creating a budget that works for you? Connect with a budget building expert today! Get personalized advice and guidance to effectively manage your finances. Click the link for more information:

Sunday, December 9, 2018

অতীতের দুঃচিন্তা

অতীত চিরদিনের মতো চলে গেছে। যদি কেউ অতীতের দুঃখজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বসে বসে চিন্তা ভাবনা করে  তাহলে এতে শুধুমাত্র এক ধরনের পাগলামি দেখতে পাবে। যেই পাগলামি বর্তমান জীবন যাপন করার বা উপস্থিত মুহূর্তে বেচে থাকার দৃঢ় সংকল্পকে ধ্বংস করে দেয়ার মতো এক ধরনের রোগ।
যাদের দৃঢ় সংকল্প আছে তারা অতীতের সকল দুঃখজনক ঘটনাবলিকে ধুয়ে মুছে ফেলে দিয়ে ভুলে গিয়েছে। এতে ঘটনাগুলো আর কখনো তাদের সত্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। কেননা, সেগুলো বিস্মৃতির অতল গহ্বরে তলিয়ে গেছে।
 অতীতের উপাখ্যান শেষ হয়ে গেছে, দুঃখ ওগুলোর ক্ষতিপূরণ করতে পারে না। বিষন্নতা সে গুলোকে সংশোধন করতে পারে না, আর হতাশা কখনও অতীতকে পুনঃজীবন দান করতে পারে না। কেননা অতীত চিরকাল অতীত ও অস্তিত্বহীন।
অতীতের দুঃস্বপ্ন দেখিও না বা যা তুমি হারিয়েছ তার মিছে আশা করিও। অতীতের ভূতের অবির্ভাব হইতে নিজে কে রক্ষা কর। তুমি কি মনে করো যে, তুমি সূর্যকে তার উদয়স্থলে, দুধকে গাভীর উলানে অথবা অশ্রুকে আখিতে ফিরিয়ে দিতে পারবে। অতীত ও অতীতের ঘটনাবলি নিয়ে অনবরত চিন্তা ভাবনা করে তুমি নিজেকে এক অতি ভয়ংকর ও শোভনীয় মানসিক অবস্থায় উপনীত করেছ।
অতীত নিয়ে অতিরিক্ত গবেষনা বর্তমানের অপচয় মাত্র। অতীতের দিনগুলো চলে গেছে এবং শেষ হয়ে গেছে। আর ইতিহাসের চাকা উল্টো দিকে বা পিছন দিকে ঘুরিয়ে তাদের ময়না তদন্ত করে তোমার তো কোন লাভ হবে না।
যেই লোক অতীতের চিন্তায় বিভোর থাকে সেই তো ঐ লোকের মত যেই লোক কাঠের গুড়ো কে করাত দিয়ে চেরাই করতে চায়। যেই ব্যক্তি অতীত নিয়ে কান্না-কাটি, হা-হুতাস ও দুঃখ করত এমন ব্যক্তিকে প্রাচীনকালে বলা হতো, “মৃতকে তাদের কবর থেকে তুলিও না।" আমাদের দুঃখজনক ব্যাপার এই যে, আমরা বর্তমানের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করতে পারি না। আমাদের সুন্দর সুন্দর প্রাসাদকে অবহেলা করে আমরা ধ্বংস করে দালানকোঠার জন্য হাউ মাউ করে কান্না কাটি করি। সকল জ্বীন ও ইনসান একত্রে অতীতকে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও তারা অতি নিশ্চিতভাবেই ব্যর্থ হবে।
পৃথিবীর সবকিছুই সম্মুখপানে এগিয়ে চলছে। এই পৃথিবী একটা নতুন ও সন্দর ঋতুর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। তোমাকেও তাই করতে হবে। তাই অতীতের সকল ধরনের দুঃখ জনক স্মৃতিকে মন থেকে ফেলে দিয়ে বর্তমানকেই গুরুত্ব দাও।

মূল লেখকঃ Shaykh Dr. Aaidh ibn Abdullah al-Qarn

Friday, April 13, 2018

বন্ধু শাহাদাতের বিয়ে উপলক্ষে শুভেচ্ছা বাণী

প্রিয় শাহাদত,
একাকী জীবনের অবসান ঘটিয়ে আজ তুই যুগল জীবনে পদার্পণ করতে যাচ্ছিস। তোর এই নব পথ চলা হউক শন্তিময়, স্বপ্নময়।  আমার হৃদয়ের উষ্ণ অভিনন্দন গ্রহণ করিস। জীবন কুসুমাস্তীর্ণ নয়। সংসার জীবনে কিংবা যুগল জীবনে বাঁধা আসবেই। সমস্ত বাঁধা ধৈর্য্য ও বুদ্ধিমত্তার সাথে মোকাবেলা করে তোর যুগল জীবনে যেন সুখের সোনালী বন্ধন অটুট থাকে এ আমার প্রত্যাশা।

প্রিয় বন্ধু,
তুই যেই পথ পাড়ি দিতে যাচ্ছিস সেই পথে যেমন রয়েছে যৌবনের উপচে পড়া তৃপ্তি যেমনি আছে গগণ বিদায়ী বেদনা, তবুও যুগ যুগ ধরে সময়ের সাহসী অভিযাত্রীরা তাদের নিজ নিজ সাথীকে  সুখ দুঃখের সঙ্গী করে পাড়ি দিয়েছে এ গিরি প্রান্তর। আল্লাহর দরবারে আমার প্রার্থনা তোর জীবন যেন ফুলে-ফলে ও ছন্দে মুখরিত হয়।

পরিশেষে,
এ দোয়াই করি, তোদের রক্তকণিকা থেকে যেন সৃষ্টি হয় হযরত আবু বক্কর (রাঃ) এর মত সত্যবাদী, হযরত ওমর (রাঃ) এর মতো ন্যায়পরায়ণ, হযরত ওসমান(রাঃ) এর মত দানবীর এবং হযরত আলী (রাঃ) এর মত বিশিষ্ট জ্ঞানী ভবিষ্যত প্রজন্ম।


Saturday, May 13, 2017

সকালের করণীয় বিষয়সমূহ



v প্রতিদিন প্রত্যুষে জেগে উঠুন সুন্দরভাবে অযু করে fresh হয়ে নিন

v সালাত আদায় করুন, কিছু যিকির আযকার করুন আল্লাহ্‌র সমিপে ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং বিনয়ভরা হৃদয়ে তার ভান্ডার থেকে চেয়ে নিন

v সারা দিনের করণীয় গুলো সম্পর্কে পরিকল্পনা করুন, মনস্থির করুন

v সকালের নাস্তা সেরে পরম দয়াময় আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন

v মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মতো কথা বলুন, কাজ করুন

v কারো সাথে বিবাদে জড়িয়ে আপনার মূল্যবান সময় এবং শক্তি অপচয় করবেন না

v সব সময় ভাল কাজে সময় ও শক্তি ব্যয় করুন

v প্রতিটি ভালো কাজ এবং ভালো সংবাদের জন্যে পরম করুণাময় আল্লাহ্‌’তায়ালার শুকরিয়া আদায় করুন

v মন্দটাকে ভালোতে বদলে দেবার সংকল্প নিয়ে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করুন

v দুঃসংবাদে ভেংগে পড়বেন না জীবন সব সময় সমান যায় না আল্লাহর উপর ভরসা করে ভাল কিছুর জন্যে অপেক্ষা করুন দুঃসংবাদের পর অবশ্যি সুসংবাদ পাবেন মনে রাখবেন রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে।

v কাউকেও ঘৃনা করে কিংবা কারো উপর রাগ করে, অথবা কারো প্রতি মনে কষ্ট নিয়ে সময় নষ্ট করার জন্য জীবন নয়। মনরাখবেন জীবন খুবই ছোট সব কিছুর জন্যে সবাইকে ক্ষমা করে দিন, উদার হৃদয়ে

v কঠিন করে কোন বিষয় ভাববেন না সকল বিষয়ের সহজ সমাধান চিন্তা করুন

v কারো সাথে বিতর্কে জড়িয়ে সময় নষ্ট করবেন না কারণ, বিতর্ক কোনো কিছুর সমাধান দেয় না

v অতীতের ভূলগুলো শুধরে নিন কারন অতীত চিরকাল অতীত ও অস্তিত্বহী। তাই অতীতের ব্যর্থতার কথা চিন্তা করে বর্তমানকে নষ্ট করবে না

v মনে রাখবেন জ্ঞানের জগতের তিন স্তর। ১য় স্তরে মানুষ মনে করে সেই সব জানে, ২য় স্তরে এসে অহংকারী হয়ে ঊঠে, কিন্তু চুড়ান্ত স্তরে যখন প্রবেশ করে তখন বুঝে সেই আসলে কিছুই জানে না। ফলে সেই জানার আগ্রহে মত্ত হয়। সব সময় ভাল জিনিশ জানার আগ্রহ নিজের মধ্যে জাগিয়ে তুলবে।

v মন্দ জিনিস জানার আগ্রহ নিজের মধ্য থেকে পুরাপুরি বের কর ফেলুন।

v টিভি সিনেমা কিংবা নাটকের চরিত্রের সাথে নিজেকে কল্পনা করবেন না, কারন এ সবই অভিনয়, বাস্তবতার সাথে কোন মিল নেই। বিশ্বাস রাখবেন মনে আল্লাহ্‌ আপনার জীবনকে উত্তমরুপে সাজিয়ে দিবে, যা আপনার জন্য কল্যাণকর। নিজেকে সিনেমা নাটকের চরিত্রের সাথে মিলাতে গেলেই জীবনে সুখের চেয়ে অসুখী বেশি হবেন। নিজের সুন্দর চরিত্র কালিমা এসে যাবে।

v আপনি কি অসুখী? মনে রাখবেন, আপনার প্রচেষ্টা এবং কাজই আপনাকে সুখ এনে দেবে

v প্রতিদিন নিয়মিত এবং সময়মত স্রষ্টার প্রতি কর্তব্য সম্পাদন করুন

v প্রতিদিন অভাবীদের কিছুনা কিছু সাহায্য করুন দাতা হোন, গ্রহীতা নয়

v কেউ মনে কষ্ট দিলে মনে কষ্ট পুষে রাখবেন না সময়ের স্রোতে সব কষ্টকে ভেসে ভাসিয়ে দিন তাই কষ্টের ব্যাপারে খোলামেলা আলাপ করুন এবং পরিবারের কাছে সাথে শেয়ার করুন

v সময় যতই খারাপ হোক তা বদলাবেই কোনো অবস্থাতেই ভেংগে পড়বেননা

v মিথ্যা কথা বলা পরিহার করুন। কাউকে মিথ্যা আশা দেওয়া মোটেই উচিত নয়।

v কাউকে কথা দেওয়ার আগে চিন্তা করবেন কথাটা রাখতে পারবেন কিনা। ১০০% নিশ্চিত হয়ে কথা দিন।

v পরিবারের সবার সাথে সবসময় সুসম্পর্ক বজায় রাখুন তারাই আপনার সবচেয়ে আপনজন এদের বাইরে কোন ব্যক্তির কাছে কিছু শেয়ার করে নিজের দুর্বলতাকে প্রকাশ করবেন না।

v প্রতিদিন আপনার জন্মদাতা ও গর্ভধারিণী বাবা মায়ের জন্যে দোয়া করুন

v প্রতি রাত ঘুমানোর আগে আপনার জীবনের হিসাব নিন ভাল কাজগুলির জন্য দয়াময় আল্লাহকে শুকরিয়া জানান মন্দগুলির জন্য অনুতপ্ত হোন সেগুলি বদলে দেবার সংকল্প করুন

[লেখার অভ্যাস খুবই কম, ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।]



Thursday, April 13, 2017

বিদায়{আটাশ}

মাত্র কয়েকটা অক্ষরের ছোট্ট একটি শব্দ, যেটির নাম বিদায়।  তবে শব্দটি পুরাপুরিভাবে বিষাদে ভরা। শব্দটা কানে আসতেই মনটা কেন যেন বিষন্ন হইয়ে ওঠে। এমন কেন হয়? কারণ এই যে, বিদায় হচ্ছে বিচ্ছেদ। আর প্রত্যেক বিচ্ছেদের মাঝেই নিহিত থাকে নীল কষ্ট। বিদায় জীবনে শুধু একবারই নয়, এক জীবনে মানুষকে সম্মুখীন হতে হয় একাধিক বিদায়ের। সে-ই যে জন্ম লগ্ন থেকে বিদায়ের সূচনা, তারপর জীবন পথের বাঁকে বাঁকে আরো কত বিদায় যে অনিবার্য হয়ে আসে আল্লাহ্‌ ছাড়া কেউ জানে না।

মানবশিশু ভুমিষ্ট হয়েই কাঁদতে থাকে। কেন সে কাঁদে...? সে তো কাঁদবেই। এতদিন মায়ের নাড়ির সঙ্গে তার যে বন্ধন ছিল সেটি যে আজ ছিন্ন হল। এভাবে জীবনের পরতে পরতে ছিন্ন হয় আরো কত প্রিয় বন্ধন! তবে এই বিদায়ে কেউ হাসে আবার কেউ সামনে হেসে চিরস্থায়ী ভাবে কাঁদে যায় আজীবন। কেউ বিদায় নিয়ে যায় সুন্দর কোন লক্ষ্যের দিকে, নতুন স্বপ্নকে বুকে বেঁধে। তবে কিন্তু অন্যদিয়ে আরেক জন......


তবে এ বিদায়ের বেলায় কষ্টের মাঝেও এক রকম আনন্দ থাকতে পারে যদি সান্তনার সংকট না থাকে। আসলে সেইটিরও আমার কাছে বড় অভাব। তার পরেও দেখতে পাচ্ছি বিদায়ী সে বিশেষ ব্যক্তি তার রঙ্গিন স্বপ্ন রঙ্গিন আশার বাস্তবায়ন জন্যই সেই বিদায় তবে তো সেই বিদায়ে সান্ত্বনা পাওয়াই স্বাভাবিক।


মানবজীবনের সর্বশেষ যে বিদায় অবধারিত হয়ে আসে তার নাম মৃত্যু। মৃত্যু এমন এক বিদায়ের নাম, যার দিন-তারিখ কেউ বলতে পারে না। বলা সম্ভব নয়। পৃথিবীতে আসার সিরিয়াল আর যাবার সিরিয়াল কিন্তু এক নয়। কুরআন মজিদে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন ... “কোনো মানুষ জানে না, সে আগামীকাল কী উপার্জন করবে এবং কোনো মানুষ জানে না, সে কোন স্থানে মৃত্যুবরণ করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ। তিনি সর্ব বিষয়ে সম্যক অবহিত। -সূরা লোকমান আয়াত-৩৪।